Marxists Internet Archive
Bangla Section


ডেমোক্রেটিয় ও এপিকিউরিয় প্রকৃতির দর্শনের পার্থক্য

কার্ল মার্কস


সূচীপত্র

সম্পাদকের নোট

কার্ল মার্ক্স জ্ঞডক্টরেট ডিগ্রিঞ্চ লাভ করেন ১৮৪১ সালে। তাঁর ডক্টরেট অভিসন্ধর্ভটি পেশ করা হয়েছিল জেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর প্রথম প্রকাশ হয় ১৯০২ সালে। এই বাংলা সংস্করণ খানির উৎস খতক্ষঃ- উশফনরড় ইষররনদঢ়নধ ঠষক্ষযড় এর প্রথম খন্ড। তা সংগৃহীত হয়েছে আক্ষভতশ আতড়ফনশ ঐশঢ়নক্ষশনঢ় অক্ষদবভৎন ২০০০ (বঢ়ঢ়স://ংংং.লতক্ষঃভড়ঢ়ড়.ষক্ষফ) হতে। তাদের প্রতি সহযোদ্ধার কৃতঞ্চতা।
এই সংস্করণে মূল অংশের ধারাক্রম মার্ক্সের অভিসন্ধর্ভ অনূযায়ী করা হয়েছে। পরিশিষ্ট হিসেবে তিনি এপিকিউরাসের বিরুদ্ধে প্লুটার্কের সমালোচনার জবাব জুড়ে দিয়েছেন। তার বেশ কিছু অংশ অসম্পূর্ণ আকারে পাওয়া গেছে, বর্তমান সংস্করণে তার দুটি অংশ দেয়া হল। প্রথমটিকে খসড়া বলাই ভালো, দ্বিতীয়তে প্লুটার্কের সমালোচনার সমালোচনা আছে। প্রায় পুরোদস্তুর একাডেমিক কাজ হওয়াতে প্রতিটি মূল অধ্যায়ের পরে অতিশয় বিস্তৃত আকারে ধ্রুপদী গ্রীক, রোমান ও মধ্যযুগের য়ুরোপীয় লেখকদের রচনাবলী হতে দীর্ঘ অংশ উদ্বৃতি দেয়া হয়েছে। মার্ক্সের বিশ্লেষন হতে ধ্রুপদী পাশ্চাত্য দর্শন পাঠের জন্য তা খুব জরুরী এবং তার পরিসরও ভিন্ন বলে মনে হওয়ায় বর্তমান ভাষান্তরে তা বর্জিত হয়েছে।
সম্পাদকীয় পরিশিষ্ট রুপে জ্ঞজ্ঞপ্রাচীন গ্রীসের পরমাণূবাদঞ্চঞ্চ এর উপর ছোট রুপরেখা, এই রচনাটি সম্পূর্ণ করবার কালে মার্ক্সের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনূধাবনে সহায়তার লক্ষ্যে জ্ঞফরাসী বিপ্লব পরবর্তী ১৮৪৮ পর্যন্ত য়ুরোপে শ্রমিক আন্দোলনঞ্চ এবং জ্ঞফরাসী বিপ্লব হতে ১৮৪০ পর্যন্ত জার্মানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতিঞ্চ- এর ধারাক্রম দেয়া আছে। এই দুই অংশের ধারাক্রমের কিঞ্চিত বিস্তৃত আলোচনা এবং তৎকালীন জার্মানীর বৌদ্ধিক পরিস্থিতিও মার্ক্সের সমবিহারীদের, নব্য ও পুরোনো হেগেলপন্থীদের ঠোকাঠুকির মোদ্দাকথা নিয়ে জ্ঞপাঠ প্রবেশঞ্চ এই অংশেই সন্নিবিষ্ট হল। গ্রন্থ শেষে অভিসন্ধর্ভে ব্যবহৃত লেখক, দার্শনিকদের নাম ও দার্শনিক পরিভাষার পরিচয় দেয়া আছে।
মার্ক্স তাঁর ডক্টরাল অভিসন্দর্ভে বিজাতীয়তার কিছু সমস্যা তুলে ধরেছেন। তার ধরণ অবশ্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। কাজটা তিনি করেছেন এপিকিউরিয় দর্শনকে বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করে। এপিকিউরাসের দর্শনকে তিনি এখানে দেখেছেন জীবনকে নিজের মত করে বাবার ঝোঁকের দ্বারা আচ্ছন্ন এক ঐতিহাসিক স্তরের প্রকাশ হিসেবে। এমন ঐতিহাসিক স্তরের প্রকাশ হিসেবে। এমন ঐতিহাসিক স্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন এপিকিউরাসের মত জ্ঞবিচ্ছিন্ন, নির্জন, স্বাতন্ত্রিকেরাঞ্চ, আর দর্শন যেন সেই পতঙ্গ যে চরাচরব্যাপি সুর্যাস্তের পর জ্ঞআপন বলয়ের প্রদীপঞ্চ খুঁজে বেড়ায়।
এপিকিউরয় দর্শন আলোচনা করতে গিয়ে মার্ক্সের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এর মধ্যেই হয়ে পড়েছিল জগতের পরস্পরবিরোধী চরিত্র। এপিকিউরাস পরমাণূর স্বভাবকে অর্ন্তগতবাবেই পরস্পরবিরোধী মনে করতেন। তাঁর এই ধারণাটি মার্ক্স খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। জ্ঞজ্ঞসারসত্ত্বা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অস্তিত্বেরঞ্চঞ্চ কথা এপিকিউরাস উল্লেখ করেছেন। মার্ক্স ডক্টরেট অভিসন্ধর্ভে এই ঠোকাঠুকির ওপর জোর দিয়েই তাঁর তৎকালীন দার্শনিক বুনিয়াদে বিচ্ছিন্নতার দারণা দাঁড় করিয়েছেন। প্রাচীন গ্রীসের পরমানূবাদের তর্কের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- পরমাণূরা কি সরল রেখায় চলে, না কি নিজেরা এক অপরের সাথে ঠোকাঠুকিও করে? এপিকিউরাস এ ব্যাপারে দ্বিতীয় মতানূসারী ছিলেন। তাঁর মতে শূণ্য স্থানে পরমাণূর স্ববাব চরিত্র নিয়ে আলোচনায় তাদের অবিভাজ্য নীতিসমূল (এটোমাই আর্কাই) এবং অবিভাজ্য উপাদানসমূল (এটোমাই স্টোইকেইয়া) নিয়ে যে আলোচনা আছে, তাতে মার্ক্স সিদ্ধান্ত টানছেন-
অস্তিত্ব এবং সারসত্ত্বার মধ্যকার দ্বন্দ্ব, বস্তু এবং আঙ্গিকের মধ্যকার দ্বন্দ্ব (যা পরমাণূর ধারণায় সহজাত) কোন একবার গুণাবলী সমৃদ্ধ হয়ে স্বতন্ত্র পরমাণূ ধারণা হতে বিজাতীয় হয়ে পড়ে কিন্তু একই সময়ে তার গঠন নিখুঁত হয়। (.....)
এই ধরণের বৈশিষ্ট্যকে মার্ক্স অস্তিত্বের স্বায়ত্ত্বাধীন, স্বাধীন ধরণ বলেছেন। এইপকিউরাসের পরমাণূবাদের এই জ্ঞপরম নীতিঞ্চকে আত্মচৈতন্যের এই জ্ঞস্বাভাবিক বিঞ্চানঞ্চকে বলেছেন অমূর্ত স্বাতন্ত্রতা। মনে হতে পারে এপিকিউরাসের পরমাণূবাদের এই সব প্রকৃতি বিঞ্চানের তত্ত্বের সাথে তাঁর বিজাতীয়তার ধারণার যোগাযোগ কষ্টকল্পিত কিনা।
মার্ক্সের চিন্তা পরিমণ্ডলের বিকাশের এই পর্যায়ে মার্ক্সের মনোযোগ মূলত অভিনিবেশিত ছিল রাষ্ট্র সমস্যায়। ধর্মের স্বভাব, কাজকর্মের ধরণ নিয়ে তাঁর প্রাথমিক সিন্ধান্তগলো কেমন করে সমকালীন মানব সমাজ বিশ্লেষণে কাজে লাগছিল তা বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীস আর রোমের প্রতিষ্ঠিত ধর্মের অবক্ষয়ে রাষ্ট্রের ক্ষয় হয়েছিল- এ মতাবলম্বীদের উল্টাতে তিনি বলেন যে রাষ্ট্রের অবক্ষয়েই ঐ ধর্মের অবক্ষয় হয়েছিল। একথা মার্ক্স প্রথম বলেননি। তবে মার্ক্সের বিজাতীয়তাঞ্চর ধারণাতেই তা চুড়ান্ত ক্লাইমেক্সে পৌঁছয়। তিনি বিরোধী পক্ষের ধারণাকে বলতেন, জ্ঞমাথায় ভর করে দাঁড়ানো ইতিহাসঞ্চ। পুঁজিবাদী বিজাতীয়তার জটিলতাকে সবশুদ্ধু অনূধাবনের বস্তুগত ধারণা তৈরীর দিকে তা ছিল এক বড় পদক্ষেপ।

পরবর্তী অংশ